একসঙ্গে জন্মানো পাঁচ সন্তানের লালন–পালনে দুশ্চিন্তায় দরিদ্র দম্পতি

সময়ের প্রবাহ:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চাঁদকাঠী গ্রামের লামিয়া আক্তার (২২) এক মাস আগে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এ ঘটনা পরিবারে আনন্দের সঞ্চার করলেও এখন সন্তানদের লালন–পালনের খরচ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন লামিয়া ও তাঁর স্বামী মো. সোহেল হাওলাদার।

গত ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন লামিয়া। সন্তানদের নাম রাখা হয়েছে—মো. হাসান, মো. হোসাইন, মো. মোয়াজ্জিন, মোসা. লামিবা ও মোসা. উমামা। বর্তমানে লামিয়া তাঁর বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে আছেন। নবজাতকদের পরিচর্যা করছেন তাঁর মা শাহনাজ বেগম (৪০)।

শাহনাজ বেগম জানান, পাঁচটি শিশুই সুস্থ আছে, তবে তাঁদের যত্ন ও দুধের খরচ মেটানো পরিবারের পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকার দুধ কিনতে হয়। লামিয়ার বাবা ফারুক হাওলাদার ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কয়েক বছর আগে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়, তবু সংসারের অভাবে আবার কাজে ফিরতে হয়েছে।

সোহেল হাওলাদার স্থানীয় বাজারে ছোট একটি মুদি দোকান চালান। তিনি বলেন, “আমার সামান্য আয় দিয়ে পাঁচ সন্তানকে বড় করা সম্ভব নয়। তাঁদের সুস্থভাবে মানুষ করতে হলে সমাজ ও সরকারের সহযোগিতা দরকার।”

এলাকার বাসিন্দারা জানান, দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে পাঁচটি শিশুর দায়িত্ব একা সামলানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা এই পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ বলেন, “সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কোনো তহবিল নেই। তবে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”

somoyerprobaho - copyright © All rights reserved. | This Site Developed by Arifin Riad