অচলাবস্থা চলতে থাকলে ২০ শতাংশ ফ্লাইট চলাচল কমিয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

সময়ের প্রবাহ:

বাজেট পাসের জটিলতা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারে টানা ৩৮ দিন ধরে চলছে অচলাবস্থা বা শাটডাউন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাইট কমাতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি।

ইতিমধ্যেই সরকারি নির্দেশে শুক্রবার থেকে ফ্লাইট কমানো শুরু করেছে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেডের মতো বড় সংস্থাগুলো। এই চার প্রতিষ্ঠানই এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি ফ্লাইট বাতিল বা কমিয়েছে।

মার্কিন বেসামরিক উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ (এফএএ) জানায়, দেশের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে গতকাল থেকেই ৪ শতাংশ ফ্লাইট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাটডাউন চলতে থাকলে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে এ হার ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার আটলান্টা, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, হিউস্টনসহ ১০টি বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট দেরিতে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ফ্লাইট মনিটরিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, শুধু শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫,৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটে চার ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি, ১৭ শতাংশ বাতিল এবং ৪০ শতাংশ দেরি করে ছাড়ে।

শাটডাউনের কারণে বিমান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ১৩ হাজার কর্মী এবং ৫০ হাজার নিরাপত্তা পরিদর্শক বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। ফলে উপস্থিতি দ্রুত কমছে, যা বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কংগ্রেসে ব্যয় বিল পাসে ব্যর্থতা এই অচলাবস্থার মূল কারণ। রিপাবলিকানরা শুধুই ব্যয় বিল পাসের ওপর জোর দিচ্ছে, আর ডেমোক্র্যাটরা এতে স্বাস্থ্যসেবা খাত অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে। দুই পক্ষের এই মতবিরোধেই সিনেটে একাধিকবার ভোটাভুটি হলেও বিলটি পাস হয়নি।

পরিবহনমন্ত্রী ডাফি বলেন, “যদি কর্মী সংকট আরও বেড়ে যায়, তাহলে ফ্লাইট চলাচল ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে বাধ্য হতে হবে।”

 

somoyerprobaho - copyright © All rights reserved. | This Site Developed by Arifin Riad