
সময়ের প্রবাহঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের তিন সদস্যসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিএনপির এক পক্ষের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি অন্তত ১০টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। আশপাশের কয়েকটি দোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর-১ আসনে (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দীন মিয়া–এর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আজকের সংঘর্ষও সেই দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল তিনটার দিকে শামসুদ্দীন মিয়ার সমর্থকেরা ওয়াপদার মোড়ে এবং নাসিরুল ইসলামের সমর্থকেরা এক কিলোমিটার দূরের কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ মোড়ে জড়ো হন। উভয় পক্ষের হাতে ছিল বাঁশের লাঠি, যার মাথায় ধানের শীষ বাঁধা ছিল। বিকেল চারটার দিকে দুই পক্ষের মিছিল কাছাকাছি এলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। নাসিরুলের সমর্থকরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় শামসুদ্দীনের অনুসারীরা ওয়াপদার মোড়ের দিকে সরে গিয়ে অবস্থান নেন।
সংঘর্ষ থামাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদ এবং থানার ওসি মাহমুদুল হাসান现场ে উপস্থিত হয়ে চেষ্টা করেন, কিন্তু হামলা তীব্র হলে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে নাসিরুলের সমর্থকেরা হারুন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থাকা মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ভবনের নিচতলায় শামসুদ্দীন মিয়ার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চায়নিজ কুড়াল দেখা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা হয়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এরপর ফায়ার সার্ভিস আবার আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
বিএনপি নেতা শামসুদ্দীন মিয়া অভিযোগ করে বলেন,
“প্রশাসনকে জানিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করছিলাম। কিন্তু নাসিরুলের লোকজন আওয়ামী লীগের কিছু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে, খালেদা জিয়ার ছবি ভেঙেছে। অন্তত ১৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম দাবি করেন,
“আমি তখন মধুখালীতে ছিলাম। আমাদের সমর্থকদের ওপর আগে হামলা চালানো হয়েছে। ওরা ভবনের ওপর থেকে ইট ছুড়ে মারে, এতে চার-পাঁচজন আহত হন। জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায়।”
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন,
“বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”


More Stories
রাংটিয়ায় ১২ বছরের শিশু সিপন নিখোঁজ
শীলখালী চেকপোস্টে ১০ হাজার ইয়াবাসহ এক তরুণ গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবাগত পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফের যোগদান