বৃষ্টির পানি ঢোকে, এসি বিকল হয়, মেট্রো ব্যবস্থায় ৪৫ ত্রুটি

সময়ের প্রবাহ:

ঢাকার মেট্রোরেলে বৃষ্টির পানি ঢোকে, এসি বিকল হয়, টিকিট মেশিন ও ট্রেনের সেন্সর নষ্ট হয়—এমন ৪৫ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি শনাক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগে ১০, বৈদ্যুতিক কাজে ১৬, অবকাঠামোতে ১০ এবং ট্রেন ও যন্ত্রাংশে ৯ ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শকদের একাধিকবার চিঠি দিলেও বেশির ভাগ সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি।

ডিএমটিসিএলের নথি বলছে, ১৬টি স্টেশনের অন্তত ৮৯ স্থানে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করছে। ছাদের ফাঁক, কনকোর্স ও এসি ইউনিটের পাশে পানি পড়ছে। কিছু জায়গায় টেপ লাগিয়ে মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী নয়।

চলাচলের সময়ও নানা সমস্যা হচ্ছে। ট্রেন অনেক সময় নির্ধারিত স্থানের আগে বা পরে থামে, দরজা খোলা-বন্ধে সমস্যা হয়, এমনকি ইলেকট্রনিক ব্রেক ও সেন্সর ত্রুটিতেও চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে বহুবার। দুই বছরে ৩০–৪০ বার মেট্রোরেল বন্ধ ছিল ২০ মিনিট থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত।

এ ছাড়া টিকিট কাটার যন্ত্র ও গেট ব্যবস্থাও ঠিকমতো কাজ করছে না। এক বছরে লোকাল কন্ট্রোল ইউনিট ১৩ বার বিকল হয়েছে। ৮২টি টিকিট ভেন্ডিং মেশিন ১৬৫ দিনের সমপরিমাণ সময় বন্ধ ছিল।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা, গত ২৬ অক্টোবর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে এক পথচারী নিহত হন। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, এমন ২৭৪টির মতো বিয়ারিং প্যাডে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিচ্যুতি পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের ব্যয় ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকায়। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—এত ব্যয়বহুল প্রকল্পে এত ত্রুটি কেন?

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “আমরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে অসম্পূর্ণ স্থাপনা পেয়েছি। এখন যদি এর রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ব্যয় হয়, তা ভয়াবহ হবে। ঠিকাদার ও পরামর্শককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

somoyerprobaho - copyright © All rights reserved. | This Site Developed by Arifin Riad