রিপোর্ট- সামজাদ জসি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯টি উপজেলায় রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলায় পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে, আর বাকি উপজেলাগুলোতেও সপ্তাহের মধ্যেই কাটাকাটি শুরু হবে। কসবা উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে—এই মৌসুমে ১৬ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টরে, যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, “এ বছর উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আমরা নিশ্চিত।”
মাঠে সোনালি ধানের হাসি, কিন্তু দামে মন ভাঙছে কৃষকের বিনাউটি, হাজীপুর, গোপীনাথপুর, খাড়েরা, চারগাছ, বায়েক, কায়েমপুর, মিহারি ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মাঠে দেখা যাচ্ছে—কৃষকেরা হারভেস্টার বা শ্রমিক নিয়ে ব্যস্ত ধান কাটায়। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না-পাওয়ার শঙ্কায় আনন্দে ভাঁটা পড়েছে।
তালতলার কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, “তিন কানি জমিতে একবার সেচ দিয়ে ভালো ফলন পেয়েছি। কিন্তু দাম না বাড়লে লাভের আশা কম।”
হাজীপুরের কৃষক মহন মিয়া জানান, “৬ কানি জমিতে ব্রি ধান-৭৫ করেছি, ফলন ভালো। কিন্তু দাম কত পাবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তা।”
রাউৎহাটের প্রদীপ ঋষি বলেন, “এক কানি ধান কাটতে শ্রমিক খরচ ৪-৫ হাজার টাকা। মেশিনে কাটলেও ১৮০০–২০০০ টাকা লাগে।”
কৃষক নেতা আবদুল বাকির মিয়া জানান, শ্রমিক সংকট আর অতিরিক্ত মজুরি কৃষকের ব্যয় বাড়াচ্ছে। অনেক বিলে হারভেস্টার ঢুকতে না পারায় খরচ আরও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মৌসুমে যেন কোনো জমি অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
কৃষকের দাবি—ফলন ভালো, কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না-পেলে এই পরিশ্রমের প্রকৃত সুফল মিলবে না। সরকার যেন বাজারদর স্থিতিশীল ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে—এই প্রত্যাশাই তাদের।
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোল্লা ফারুক হাসান ।। নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ মাসুদ সরদার।। ই-মেইল : mollafaruk166@gmail.com ।। +88 01766777166
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫