হাটহাজারীতে রহস্যজনক চার লাশ উদ্ধার: নিরাপত্তায় চরম শঙ্কা স্থানীয়দের

সময়ের প্রবাহ:

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তিন দিনের ব্যবধানে চারজনের লাশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গত মাসেও উপজেলাটিতে পরপর তিনটি খুনের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এ পরিস্থিতি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তিন দিনে চার লাশ সোমবার সকাল থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত তিন ইউনিয়ন থেকে মোট চারজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার: অজ্ঞাত দুইজনের লাশ—এর মধ্যে একজন তরুণী। মঙ্গলবার: ধলই ইউনিয়নের মুনিয়া পুকুরপাড় এলাকার খাল থেকে এক বৃদ্ধের লাশ। বুধবার: ফতেয়াবাদ ইউনিয়নের চৌধুরীহাট ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে আরও এক বৃদ্ধের লাশ। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এগুলোর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা ও দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অক্টোবরে চার খুন

গত ৭ অক্টোবর মদুনাঘাট এলাকায় বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এর এক সপ্তাহ পর চৌধুরীহাটে ছাত্রদল নেতা অপু দাশ (৩০) ছুরিকাঘাতে নিহত হন; তার সহকর্মী তামিম (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২১ অক্টোবর নবম শ্রেণির ছাত্র তানভীর (১৫)-কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, এতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জড়িত।

জনমনে আতঙ্কক্রমাগত লাশ উদ্ধার ও খুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক–উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
শিকারপুর ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা লোকমান হাকিম বলেন, “এক মাসে চারটি লাশ উদ্ধার ও একাধিক খুনের ঘটনা মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। নির্বাচন সামনে—পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।”

পুলিশের বক্তব্য পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাটহাজারী থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, দুটি মামলা হত্যা ও দুটি অপমৃত্যু হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা—একজন পানিতে ডুবে এবং আরেকজন গাড়িচাপায় মারা গেছেন। পুলিশের দাবি, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক।

somoyerprobaho - copyright © All rights reserved. | This Site Developed by Arifin Riad